ইউএস আইটি কানেক্ট স্থাপনের প্রস্তাব দিলেন পলক
দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্টারনেট, সেইফ আইটি এবং নাগরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী মার্কিন সরকার। সেই লক্ষ্যে পরিবেশ দূষণ, অবকাঠামো ও যানজট এর মতো ক্ষেত্রে ঢাকার সঙ্গে হালনাগাদ প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে পরবর্তী ধাপে কাজ করতে চায় ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
বৃহস্পতিবার সকালে আইসিটি টাওয়ারে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের এমন অবস্থান তুলে ধরেন ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা শিবানী রসানায়াকাম। এসময় আলোচনায় অংশ নেন মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট আসিফ আহমদ ও শীলা আহমেদ।
তাদের এই আগ্রহকে সাধুবাদ জানিয়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্বে জাপান ও কোরিয়ার মতো ‘আইটি কানেক্ট ইউএস’ ডেস্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইউএস চেম্বার অব কমার্সের মাধ্যমে এই ডেস্ক স্থাপন করার প্রস্তাব দেন জুনাইদ আহমেদ পলক।
বেসিস ও মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে এই ডেস্ক খোলা হলে মার্কিন মুলুকে কর্মরত বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার রপ্তানি কারক, আইটি সেবাদাতার মাধ্যমে এই ডেস্ক থেকে শত কোটি ডলারের ব্যবসায় অংশীদারিত্বের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষিক ওই বৈঠকে তিনি আরো বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যেই এটা বাস্তবায়ন সম্ভব। কেননা এরই মধ্যে আমরা বুয়েটে ন্যানো ল্যাব স্থাপন কেরেছি। ধাপে ধাপে দেশেই মাইক্রোচিপ থেকে ন্যানো চিপ ইকো সিস্টেম তৈরি করছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, মাইক্রোচিপের নকশা এবং সাইবার নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে আমরা আমাদের সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে রিসোর্স ট্যালেন্টপুল তৈরি করছি। ফলে আগামী ১০ বছরে আমরা ভালোভাবেই বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে অংশ নিতে পারবো।
নিজেদের সক্ষমতা প্রকাশ করে পলক বলেন, মাইক্রোচিপ ডিজাইনিংয়ে এরইমধ্যে তিনটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, অ্যাপল এবং এএমডি’র জন্য কাজ করছে। এই শক্তি নিয়েই আমার বিশ্বাস আগামী ৫ বছরে আমরা ১০ গুণ উন্নতি করতে সক্ষম হবো।
মুনাফা নয়; উদ্ভাবনের নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতিশীলতায় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ-ইউএস আইটি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সঙ্গে ত্রি-পাক্ষিক বৈঠক করে ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছে বলে অবহিত করেন প্রতিমন্ত্রী।
এসময় স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ স্মার্ট বাংলাদেশের রূপরেখা এবং আইসিটি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম প্রেজেন্টেশন আকারে অতিথিদের কাছে তুলে ধরেন।
ক্যাশলেস সোসাইটি গঠন ও ইনক্লুসিভ সোসাইটির গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার, আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ হাইটেকপার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, আইডিয়া প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ আলতাফ হোসেন, ইডিজিই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্মসচিব ড. মুহম্মদ মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।







